গরমে বিড়ালকে ঠান্ডা রাখার ১০টি কার্যকরী উপায়
(বাংলাদেশের ৪০–৪২° গরমেও পরীক্ষিত!)
গরম পড়লেই আমাদের দেশি বিড়ালও হাঁপায়, পার্সিয়ান-হিমালয়ান তো প্রায় গলে যায়। বিড়ালের শরীরের তাপমাত্রা ৩৯° পর্যন্ত স্বাভাবিক, কিন্তু ৪১° ছাড়ালেই হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি। নিচের ১০টা উপায়ে ৯৫% বিড়ালই আরামে গরম কাটায়।
১. ঘরের তাপমাত্রা ২৮°-র নিচে রাখুন
- ফ্যান + কুলার চালান।
- দিনের বেলা পর্দা ফেলে রাখুন, সূর্যের আলো যেন সরাসরি না আসে।
- মার্বেল/টাইলসের মেঝেতে পানি ছিটিয়ে দিন – বিড়াল সেখানেই শুয়ে থাকবে।
২. সবসময় তাজা ঠান্ডা পানি রাখুন (অন্তত ৩ জায়গায়)
- সিরামিক বা স্টিলের বাটি ব্যবহার করুন (প্লাস্টিক গরমে গন্ধ করে)।
- বোতলের ঠান্ডা পানি ঢেলে দিন, বরফের কিউব ভাসিয়ে দিন।
- ফাউন্টেন (চলন্ত পানির ঝর্ণা) রাখলে বিড়াল বেশি খাবে।
৩. আইস-পড বা ঠান্ডা মাদুর দিন
- পানি ভর্তি প্লাস্টিকের বোতল ফ্রিজে ঠান্ডা করে কাপড়ে মুড়িয়ে বিছানায় রাখুন।
- বাজারে “Pet Cooling Mat” পাওয়া যায় (৫০০–১২০০ টাকা) – জেল ভর্তি, চাপ দিলেই ঠান্ডা হয়।
৪. লম্বা চুলের বিড়ালের গ্রুমিং করান (Lion Cut)
- পার্সিয়ান-হিমালয়ান-মেইনকুনের গরমে “লায়ন কাট” করিয়ে দিন – শরীরের চুল ছোট, মাথা-লেজ-পায়ের চুল রেখে।
- খরচ: ঢাকায় ৮০০–১৫০০ টাকা। একবার করলে ৩-৪ মাস আরাম।
৫. ভেজা তোয়ালে টাঙিয়ে ফ্যান চালান
পুরানো কায়দা, কিন্তু অসম্ভব কার্যকরী। জানালায় বা দরজায় ভেজা তোয়ালে ঝোলান → ফ্যান চালান → ঘর ৪–৫° ঠান্ডা হয়ে যায়।
৬. ঘরে ঘুরতে দিন, বারান্দায় না
বারান্দার টাইলস দুপুরে ৫৫° পর্যন্ত গরম হয় – পায়ে পোড়া লাগে। বিড়ালকে ঘরের ভিতরেই রাখুন। বিকেল ৫টার পর বারান্দায় নিয়ে যেতে পারেন।
৭. খাবারে পানির পরিমাণ বাড়ান
- শুধু কিবল খাওয়ালে পানিশূন্যতা হয়।
- ওয়েট ফুড বা ঘরে রান্না মুরগি-মাছের ঝোল মিশিয়ে দিন।
- দই পাতলা করে মিশিয়ে দিতে পারেন – বিড়াল বেশিরভাগই পছন্দ করে।
৮. পা-পেট-কানে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিন
দিনে ২-৩ বার ঠান্ডা পানিতে ভেজা নরম কাপড় দিয়ে পায়ের তলা, পেট ও কানের পিছন মুছে দিন। বিড়ালের শরীরের তাপ এই তিন জায়গা দিয়েই বের হয়।
৯. ঘরে ছোট ফ্যান বা টেবিল ফ্যান নিচে রাখুন
বিড়াল মেঝেতে শোয়, তাই উপরের সিলিং ফ্যানের হাওয়া পায় না। একটা ছোট ফ্যান মেঝের দিকে রাখুন – সঙ্গে সঙ্গে পাশে শুয়ে পড়বে।
১০. জরুরি লক্ষণ দেখলে তৎক্ষণাৎ ভেটে নিয়ে যান (হিটস্ট্রোক)
যদি দেখেন –
- হাঁ করা, জিভ বের করে হাঁপানো
- লালা ঝরছে
- শুয়ে পড়ে উঠতে পারছে না
- বমি বা খিঁচুনি
তাহলে আর দেরি না করে ভেজা তোয়ালে জড়িয়ে এসি গাড়িতে ভেটে নিয়ে যান। ১০ মিনিট দেরি হলেও মারা যেতে পারে।
এই ১০টা উপায় মানলেই আপনার বিড়ালটা এই ভ্যাপসা গরমেও শুয়ে শুয়ে পা দোলাতে থাকবে।
আপনি কোনটা এখনো ট্রাই করেননি? কমেন্টে জানান! 🧊🐱
